জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেনের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই শাবিপ্রবিতে নতুন কোষাধ্যক্ষ
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি:
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। তবে নির্ধারিত চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি।
বিদায় উপলক্ষে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একক নেতৃত্বে পরিচালিত হয় না; সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হয়। সে কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু করতে না পারলেও সবাইকে নিয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
দায়িত্ব পালনকালে সম্পাদিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন জানান, প্রমোশন ও আপগ্রেডেশন থেকে বঞ্চিত শিক্ষকদের জন্য নীতিমালায় যৌক্তিক পরিবর্তন এনে বোর্ড বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রকাশনা প্রণোদনা বৃদ্ধি, বিভাগীয় ল্যাব সুবিধা ও নিয়মিত বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের কনফারেন্স মঞ্জুরি চালু, হলের সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন করে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ, নতুন বাস ক্রয় ও বাসসেবা বৃদ্ধি, হলগুলোতে সাইকেল স্ট্যান্ড ও রিডিং রুম তৈরিতে বরাদ্দ এবং হলের ক্যান্টিন আধুনিকায়নে বাজেট বরাদ্দের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া কয়েকটি বিভাগের শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন ও কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনে বিশেষ বরাদ্দ, লাইব্রেরির রিডিং রুম আধুনিকায়ন, গেস্ট হাউসের উন্নয়ন, একাডেমিক ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান এবং সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ। মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের স্কলারশিপ বৃদ্ধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলা, নতুন যোগদানকারী শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ের জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত স্কলারশিপ যথাসময়ে বিতরণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে চ্যান্সেলর মনোনীত বিশেষজ্ঞদের তালিকা দ্রুত প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া এবং ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন পদের বাজেট অনুমোদনসহ নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান উন্নয়নে কমিটি গঠন, যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক কোলাবরেশন স্থাপনে ভূমিকা রাখাসহ আরও বেশ কিছু কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কথা তাঁর বিদায়বার্তায় উঠে এসেছে।
নিজের কর্মকাণ্ডকে একক অর্জন হিসেবে দেখেননি অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন। এসব কাজ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ডিন, বিভাগীয় প্রধান, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের ব্যক্তিদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত এই সময়ে অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও সবকিছু করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এ সময়ে আল্লাহর রহমত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে সবার সহযোগিতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে।
সবশেষে দায়িত্ব পালনকালে অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি সবার কাছে নিজের জন্য দোয়া কামনা করেন।
উল্লেখ্য, শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ পদে অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেনের নিয়োগের মেয়াদ ছিল যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেন।

