জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ডাক কুবি ইনকিলাব মঞ্চের

Spread the love

জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ডাক কুবি ইনকিলাব মঞ্চের

কুবি প্রতিনিধি :

‘জুলাইয়ের বিজয়গাথা ও বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির নবযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ইনকিলাব মঞ্চ।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ এলাকার ক্যাপসিকাম পার্টি সেন্টারে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের, কাসীদা’র লিড ভোকালিস্ট আহমেদ আতাউল্লাহ সালমান, ইনকিলাব মঞ্চের সার্চ কমিটির সদস্য ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, সার্চ কমিটির সদস্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্লেষক ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান।

এছাড়াও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদুল ইসলাম সহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র নেতারা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমাদের প্রোগ্রামের তালিকা দেখে অনেকের মাথা খারাপ হয়ে গেছে—ইনকিলাব মঞ্চ জুলাই নিয়ে এত কাজ করবে কেন? বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ সৃষ্টি করে আমাদের কাজগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি, শুধু অবকাঠামো থাকলেই সাংস্কৃতিক কাজ করা যায় না; কাজ করার জন্য মানুষের প্রয়োজন। তাই ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে ঘিরে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে আমরা সেটি ছেড়ে দিয়ে মানুষের শক্তিকে কাজে লাগাতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে জুলাই নিয়ে কেউ কাজ না করলেও আমরা অন্তত ১০০টি মানসম্মত কাজ করতে চাই। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জুলাই নিয়ে অন্য যেকোনো প্রকাশনীর চেয়ে বেশি বই প্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে।

একই সঙ্গে ভারতীয় বা কলকাতাকেন্দ্রিক ন্যারেটিভের বিপরীতে বাংলাদেশের আজাদীর গল্প, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সিনেমা ও অন্যান্য মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। আমরা মনে করি, বাংলাদেশকে ভালোবাসেন এবং বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি নির্মাণ করতে চান—এমন মানুষদের একটি জায়গায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার শুধু হাদির জন্য নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে না পারলে আমরা দীর্ঘদিন নানা তত্ত্বের কথা বলে যাব, কিন্তু প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না।”

সভাপতির বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো: হান্নান রাহীম বলেন, “জুলাই আন্দোলনে কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তরে আনসার ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। সেই প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় ৩৬ জুলাই আমাদের বিজয় এসেছে। কুমিল্লার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন ও প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, সামগ্রিক বিপ্লবের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা হয়তো একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়েছি, কিন্তু সাংস্কৃতিক জায়গায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনও আনতে পারিনি। আমাদের এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের এই অগ্রযাত্রায় আপনারা ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে থাকবেন এবং এই অগ্রযাত্রার সৈনিক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট, শহীদ শরীফ ওসমান হাদী নিয়ে স্মৃতিচারণ, ভারতীয় আধিপত্য এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ে আলোচনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *