
শাবিপ্রবিতে লেক ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত রুদ্র সেন স্মৃতি লেকের একটি অংশের পাশে গ্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে নির্মিত লেকটি বর্তমানে ক্যাম্পাসের অন্যতম নান্দনিক স্থান হিসেবে পরিচিত। লেকজুড়ে লাল শাপলা, সবুজ পরিবেশ এবং মাঝখানের কৃত্রিম দ্বীপটি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতি লেকের সংলগ্ন একটি অংশে গাড়ি রাখার জন্য নতুন গ্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লেকের নান্দনিকতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, একই পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে মাত্র দুই ডজনের মতো গাড়ি রাখার গ্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত যথেষ্ট পরিকল্পিত নয়। অনেকেই মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন, চিকিৎসা সুবিধা বা ইন্টারনেট সেবার উন্নয়নে এই অর্থ ব্যয় করা হলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি উপকারী হতো।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পরিবেশগত বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, লেকের অংশ ভরাট করা এবং পাশের এলাকায় মাটি কাটার ফলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। পাশাপাশি গ্যারেজ ব্যবহারের ফলে তেল বা বর্জ্য পানি লেকে প্রবেশ করলে জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি একটি সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা জানান, গ্যারেজ নির্মাণের নকশা উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হওয়ায় এতে বড় ধরনের পরিবর্তন করা সহজ নয়। কাজের সুবিধার্থে আপাতত লেকের পানি কিছুটা সরিয়ে রাখা হয়েছে, তবে স্থায়ীভাবে খুব অল্প অংশই গ্যারেজের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে তারা দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গ্যারেজটিতে প্রায় ২২ থেকে ২৩টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি সেখানে ভূমি উন্নয়ন, গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী রাস্তা, একটি দুইতলা অফিস কক্ষ এবং সুরক্ষার জন্য আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লেকের সৌন্দর্য যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত বিষয় এবং শিক্ষার্থীদের মতামত আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।





