জবি ছাত্রদলের কমিটি ভাঙার গুঞ্জন, নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

Spread the love

জবি ছাত্রদলের কমিটি ভাঙার গুঞ্জন, নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা

জবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হতে পারে।

কমিটি পুনর্গঠনের আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও ক্যাম্পাস ও দলীয় অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক প্রচার সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি), যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাহামুদুল হাসান খানের নামও আলোচনায় রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় উঠে আসা এই তিন নেতা রবিউল আউয়াল, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ ও মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি)দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অবদানের কারণে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।

গণিত বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল আউয়াল বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। ২০১৪ সালের অবরোধ কর্মসূচি, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বিএনপি ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন, ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন কর্মসূচি এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয় এবং তিনি দুইবার কারাবরণ করেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় তাঁর নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

ময়মনসিংহ জেলার সন্তান সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ মানবিক, সৃজনশীল ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিত। ক্যাম্পাস ও আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিকবার ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। সাহসী ও নিবেদিত সংগঠক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন তিনি।

পটুয়াখালী জেলার সন্তান মোস্তাফিজুর রহমান (রুমি) ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। ২০১১ সালে সূত্রাপুর থানা, ২০১৪ সালে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ ইকুরিয়া থানা এবং ২০১৮ সালে প্রেসক্লাব এলাকায় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং ২০২১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করতে গিয়েও তিনি গ্রেপ্তার হন। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে পাঠায়। পরে প্রায় ৪৭ দিন কারাভোগ শেষে একই বছরের ৮ অক্টোবর তিনি মুক্তি পান।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব সম্প্রতি বলেছেন, দ্রুতই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। তাঁর এ বক্তব্যের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *