শাকসু হয়নি, তবু শিথিল রাজনীতির সুযোগে আবাসিক হলে ছাত্রদলের কর্মসূচি; উপস্থিত স্বয়ং উপাচার্য—নিষেধাজ্ঞা কি তবে শিথিল?

Spread the love

শাকসু হয়নি, তবু শিথিল রাজনীতির সুযোগে আবাসিক হলে ছাত্রদলের কর্মসূচি; উপস্থিত স্বয়ং উপাচার্য—নিষেধাজ্ঞা কি তবে শিথিল?

মোহাম্মদ হাসান
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্ররাজনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে শাকসু নির্বাচন শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যেই আবাসিক হলে ছাত্রদলের একটি অংশের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ছাত্ররাজনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রাখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রক্টরের অনুমোদন নিয়ে করার সুযোগ দেওয়া হলেও একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে সভা ও মিছিলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়। শাকসু নির্বাচনের জন্য প্যানেল গঠন ও পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হল প্রশাসনের অনুমতির সুযোগ রাখা হয়েছিল।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট ছিল শাকসু নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সেই সময়কার সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ও বর্তমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

১৮ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ হলের টিভি রুমে ছাত্রদলের একাংশের উদ্যোগে ‘শহীদ জিয়া সাপ্তাহিক পাঠচক্র’ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির জন্য তাঁর দপ্তর থেকে কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। হল প্রভোস্টও জানিয়েছেন, তাঁর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি; আয়োজকদের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

এখানেই ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সামনে আসে। যে হলে রাজনৈতিক সভা-মিছিলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকার কথা, সেখানে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলো। আবার সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং হল প্রভোস্ট।

তবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিজেই কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে উপাচার্যের সরাসরি বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে তিনি কী উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বা কর্মসূচিটির বিষয়ে তাঁর প্রশাসনিক অবস্থান কী ছিল—তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে আয়োজকদের বক্তব্য, তারা প্রক্টরকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। লিখিত অনুমতির বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফলে বিষয়টি কেবল একটি ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সামনে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম প্রয়োগের প্রশ্নও। বিশেষ করে শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন না হওয়ার পর সেই সুযোগের পরিধি কতটা এবং আবাসিক হলের ক্ষেত্রে প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান কী—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রশাসন অভিন্ন নীতি অনুসরণ করছে কি না, সেটিও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি থাকলেও তার জন্য নির্ধারিত স্থান, অনুমোদন ও অন্যান্য শর্ত কার্যকর থাকলে সেগুলোর প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে একই হওয়াই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

শাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে যে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর শিথিল করা হয়েছিল, নির্বাচন না হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর রয়েছে—শাহপরাণ হলের এই ঘটনাটি সেই বৃহত্তর প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *