

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শরীফুজ্জামান নোমানী হত্যাকাণ্ড। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ, শুক্রবার, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন তিনি। দীর্ঘ সময় পরও ঘটনাটি বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
শরীফুজ্জামান নোমানী ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের হামলায় তিনি নিহত হন। তার মৃত্যু ছাত্ররাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
নোমানীর মৃত্যুর পর তাকে স্মরণ করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন গান ও কবিতা রচিত হয়। এর মধ্যে একটি বহুল পরিচিত পংক্তি হলো—
“এক নোমানী গেছে ঝড়ে,
জন্মেছে লাখ নোমানী…”
এই লাইনটি অনেক কর্মীর কাছে প্রতীকী স্লোগানে পরিণত হয়েছে এবং সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উচ্চারিত হতে দেখা যায়।
সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, রাজশাহীতে সাব্বির, হামিদ, নোমানী ও শাহাবুদ্দিনসহ তাদের ২১ জন ছাত্রনেতা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনাকে তারা তাদের সংগঠনের ইতিহাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর সমর্থিত প্যানেল বিপুল ভোটে অধিকাংশ পদে জয়লাভ করে। সংগঠনের সমর্থকেরা এটিকে “ভূমিধস বিজয়” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, শহীদ নোমানীর আদর্শ ও সংগঠন পরিচালনার ধারা আজও কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নোমানী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি সহিংস ঘটনার স্মৃতি নয়; বরং এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সহ বাংলাদেশ ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হয়ে আছে।





