ইবি শিক্ষিকা হত্যা; সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও এসপি’র কার্যালয় ঘেরাও

Spread the love
FacebookWhatsAppTelegramThreadsCopy Link

ইবি শিক্ষিকা হত্যা; সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও এসপি’র কার্যালয় ঘেরাও

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীসহ নিহতের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেইটে এ কর্মসূচি শুরু করে। পরে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে রুনার হত্যাকারীদের শাস্তি ও দ্রুত বিচার দাবি করে। এসময় নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে তারা বলেন, আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরাঘুরি করছে কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারতেছে না। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপকের যদি ন্যুনতম কোনো নিরাপত্তা না থাকে, তার চারটা অবুঝ বাচ্চা, এই বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকায়ে আপনাদের তো মোটামুটি প্রশাসনের উচিত ছিল এতদিনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা।

তারা আরও বলেন, আজ পর্যন্ত কিন্তু তারা কেউ গ্রেপ্তার হয় নাই। তাদের কাউকে কি জিজ্ঞাসাবাদ করা হইছে? তাহলে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চলতেছে এটাই কি চলতে থাকবে? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ লেভেলের শিক্ষকের যদি নিরাপত্তা না থাকে সেখানে একজন সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন,
আমার স্ত্রী মৃত্যুর পূর্বে যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন, আর মৃত্যুর পরে সেই ষড়যন্ত্রটা এখনও বাস্তবায়ন চলছে। প্রশাসন দেখবেন যে এই ফজলুকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের একটা নীল নকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে। তারা বিশ্বজিৎ, শ্যাম সরকারসহ যাদের বিরুদ্ধে আমার লিখিত অভিযোগ আছে যে, তারা বিভাগের অর্থ তছরূপ করেছে। সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেননি।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা বাস্তবায়নকারীর অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হাবিবুর রহমান। শ্যাম লক্ষ লক্ষ টাকা বিভাগে তছরূপ করেছে। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জানতে চান যদি শ্যাম তার মেয়াদে অর্থনৈতিক তছরূপ না করে থাকে আমি কেস উইন্ড্রো করে নিব।

তাদের দাবি- দ্রুত অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ শেষে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে পরিবার ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো: হাসান ইমামের সাথে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে সোহান জানান, রুনা হত্যার এক মাস পেরোলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সাথে আমরা কথা বলি। তিনি আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে- মূল আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে বাকি আসামিদের সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে রিমান্ডে নিয়ে মূল ঘটনার উন্মোচন করবে। এছাড়া তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমরা যে ধরনের সহযোগিতা আমরা চাচ্ছি, এখন পর্যন্ত দৃশ্যত সে ধরনের কোনো সহযোগিতা আমরা পাই নাই। প্রশাসন যদি আগামীতেও কোনো ধরনের সহযোগিতা না করে আমরা ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করবো।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকান্ডের শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবার। পরদিন আসামী ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে ইবি থানা। বর্তমানে ফজলু কারাগারে আছে। অন্য আসামিরা হলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *