
“চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যোগদান করলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান”
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখের স্মারক নং-৩৭.০০.০০০০.০৭৯.১১.০৪১.২৩-১১১ মোতাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ এর ১২ ধারা অনুযায়ী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নবনিযুক্ত মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৪.৩০টায় চবি উপাচার্য দপ্তরে উপাচার্য পদে যোগদান করেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন নিয়ে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IDB)-এর মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি লাভ করেন।
২০০৪ সালে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর উদ্যোগে বিভাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফাংশনাল জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরি (FGPL) এবং অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস। এই ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েন্সার, আরটি-পিসিআর, জিন পালসারসহ অত্যাধুনিক গবেষণা যন্ত্রপাতি রয়েছে। ফলে উদ্ভিদ টিস্যু কালচার ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রোটিওমিক্স, জেনোমিক ও ট্রান্সক্রিপ্টোমিক বিশ্লেষণ, মানব ও অন্যান্য রোগের গবেষণা, মাইক্রোবায়োলজি এবং বায়োইনফরমেটিক্সসহ জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বায়োটেকনোলজি, কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতার সম্মিলিত ধারণার গবেষণা কার্যক্রমে তিনি ধারাবাহিক গবেষণা নেতৃত্ব প্রদান করছেন। বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের অর্থায়নে তাঁর অধীনে তিনটি প্রধান গবেষণা প্রকল্প চলমান রয়েছে, যেগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা উভয় চাপ সহনশীল উন্নত প্রজন্মের ট্রান্সজেনিক ধানের জাত উদ্ভাবন, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এছাড়া, চলমান আরেকটি গবেষণার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, অণুজীবের বিবর্তন এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে উদ্ভূত সম্পর্ক বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা অনুসন্ধান করা হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য অভিযোজনমূলক স্বাস্থ্যসেবা কৌশল উন্নয়নে অবদান রাখবে।
তিনি সফলভাবে ২৮টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন, যার মোট অর্থমূল্য ৮৭২ লক্ষ টাকারও বেশি। এসব প্রকল্প ইউএসডিএ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের মতো স্বনামধন্য সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। এসব গবেষণাগুলো জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, আর্সেনিক প্রশমন, ক্যানসার ও হৃদ্রোগের বায়োমার্কার, কোভিড-১৯ জেনোমিক্স এবং অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেশে কৌশলগত চাহিদা পূরণে অবদান রেখেছে, যা জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার সঙ্গে একাডেমিক গবেষণার সমন্বয়ের সক্ষমতা প্রমাণ করে।
বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের অর্থায়নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অত্যাধুনিক, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ বজায় রাখতে পারে এমন একটি গ্রিনহাউস স্থাপনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। যা জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা অবকাঠামো হিসেবে পরিকল্পিত এই গ্রিনহাউসটি লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, খরা ও তাপমাত্রাজনিত চাপের মতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের অধীনে ফসলের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই গ্রিনহাউস মলিকিউলার বায়োটেকনোলজি, উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব ও মাঠভিত্তিক প্রয়োগমূলক গবেষণার মধ্যে একটি সমন্বিত সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে। এটি সারা বছর গবেষণা পরিচালনা, এবায়োটিক স্ট্রেস সহনশীল ফসলের প্রজন্ম উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রমাণভিত্তিক সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি এটি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও নবীন গবেষকদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
কোভিড-১৯ মহামারিকালে (২০১৯-২০২২) তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ টেস্টিং ল্যাবরেটরির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে তিনি তাঁর গবেষণাগারের অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও গবেষণা শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করেন এবং এক লক্ষাধিক নমুনা পরীক্ষায় অবদান রাখি। একই সঙ্গে ভাইরাল জেনোমিক্স ও রোগপ্রতিরোধ সংক্রান্ত কোভিড-১৯ গবেষণার নেতৃত্ব দিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে রোগের রকমফের বুঝার চেষ্টা করে জাতীয় জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতি জোরদারে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত গবেষক হিসেবে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা রয়েছে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এর। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে উদ্ভিদ জিন প্রকৌশল, জলবায়ু-সহনশীল ফসল, আর্সেনিক বিষক্রিয়া, হৃদ্রোগের জিনতত্ত্ব, ক্যানসার বায়োমার্কার, সংক্রামক রোগ এবং মলিকিউলার ডায়াগনস্টিকস। প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫৪টি (এর মধ্যে ৩৬টি আন্তর্জাতিক জার্নালে), এইচ-ইনডেক্স ১২ এবং উদ্ধৃতির সংখ্যা ৪৫০-এর অধিক। Scientific Reports Cardiovascular Toxicology ও PLOS ONE-এর মতো উচ্চমানের জার্নালে আমার গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এসব গবেষণা খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রিসিশন মেডিসিনের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারে সরাসরি অবদান রেখেছে।
এছাড়া গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি ইউএসডিএ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিসিসিটিসহ (BCCT), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গারেই (GARE), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পসহ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য সংস্থা থেকে ৫০টিরও বেশি গবেষণা অনুদান অর্জন করেছেন। গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিনি ৪৩ জন এমএস শিক্ষার্থীর থিসিস, সাতজন এম.ফিল গবেষক এবং একজন পোস্টডক্টরাল গবেষকের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। বর্তমানে উঁনার তত্ত্বাবধানে ২ জন পিএইচডি গবেষক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাঁর বহু সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশে ও বিদেশে শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা আমার দীর্ঘমেয়াদি পরামর্শদানের প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রমাণ। শিক্ষাদান পদ্ধতিতে তিনি কঠোর বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান এর শিক্ষাদর্শন গড়ে উঠেছে বিষয়গত স্বচ্ছতা, গবেষণার সমন্বয় এবং নিবিড় পরামর্শদানের ওপর। উদ্ভিদবিদ্যা, বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি ও ফাংশনাল জেনোমিক্স বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান করেছেন তিনি। বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া গবেষণাগার পরিদর্শন, ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে আগ্রহী করে তুলেছেন।
এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটিসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন বৈজ্ঞানিক সংগঠনের নিয়মিত পৃষ্ঠপোষক ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সহশিক্ষা কার্যক্রম নেতৃত্বগুণ, দলগত কাজ ও বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ দক্ষতা উন্নয়নে অপরিহার্য। শিক্ষার্থী সম্মেলন, কর্মশালা ও বিজ্ঞানভিত্তিক আউটরিচ কার্যক্রমে তাঁর উৎসাহ ও সহায়তা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও পেশাদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন দক্ষ ও সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ছিলেন এবং সোহরাওয়ার্দী হল ও শাহ আমানত হলের আবাসিক শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখি, যাতে করে তা জাতীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার ধারণার পটপরিবর্তনকারী ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন হবে, এবং যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সমন্বিতভাবে অগ্রসর হবে। আমার একাডেমিক মিশন হলো গবেষণাভিত্তিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল, নৈতিক মূল্যবোধ ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।”
তিনি বলেন, “আমার একাডেমিক ভিশন হলো, একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন, মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন এবং প্রমাননির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া, যেখানে শিক্ষকরা উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবেন এবং শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ গবেষক, পেশাজীবী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি বিশ্বাস করি, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি হতে হবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম” চালিকাশক্তি।
তিনি আরও বলেন, “আমার প্রশাসনিক ভিশন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মূল লক্ষ্য হলো- এমন একটি দ্রুত সাড়া প্রদানকারী ও ডিজিটালভাবে সক্ষম প্রশাসন গড়ে তোলা, যা ব্যুরোক্র্যাটিক জটিলতা হ্রাস করবে এবং একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও বিধিবিধান অক্ষুন্ন রাখবে। আমার প্রশাসনিক মিশন হলো, বিশ্ববিদ্যালয় শাসনব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, ন্যায্য নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সম্মানিত ও সুরক্ষিত বোধ করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক নয়; বরং এটি সেবামুখী হওয়া উচিত, যা দক্ষ শাসনের মাধ্যমে একাডেমিক উৎকর্ষকে সহায়তা করে।”






