টানা চার বছর বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায়, বাকৃবির পাঁচ গবেষকের অনন্য নজির
সুমন গাজী, বাকৃবি প্রতিনিধি:
বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকা ২০২৬ সালের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১৬ জন শিক্ষক-গবেষক। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন টানা চার বছর বা তার বেশি সময় ধরে এ তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। গত ৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’ যৌথভাবে বিশ্বসেরা গবেষকদের এ তালিকা প্রকাশ করে।
একক বছরে গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহলেখকদের প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এবার দেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪৭ জন গবেষক এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। গত বছর বাকৃবির ১২ জনের মধ্যে ১১শিক্ষক ও ১ শিক্ষার্থীর এ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন।
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় টানা চার বছর বা তার বেশি সময় ধরে স্থান পাওয়া বাকৃবির পাঁচ শিক্ষক-গবেষক হলেন- ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো শাহজাহান (২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬), টানা ৭ বার এ তালিকায় কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর (২০২০, ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬), মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান (২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬), কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬), মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম লুৎফুল কবির (২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬)।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ঢাবির ২২ জন শিক্ষক-গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ। গতবছরের ন্যায় এবারও বাকৃবি দেশের শীর্ষ তিনে রয়েছে।
তালিকায় টানা পাঁচ বছর স্থান পাওয়ায় অনুভূতি প্রকাশে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়া যেমনটা সম্মানের ঠিক তেমনি চ্যালেঞ্জিং। আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে টানা পাঁচ বছর যাবৎ আমি এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে আসছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। শিক্ষকতা ও গবেষনা পেশায় যতদিন আছি আমি চেষ্টা করে যাব যাতে আমি আমার অবস্থান ধরে রাখতে পারি। এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের সাইন্টেফিক সোসাইটির জন্য অবদান রাখতে পারি।

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়া বাকৃবি অন্য ১১ গবেষক হলেন -প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আব্দুল হান্নান, একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো ফজলে রোহানী, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম দস্তগীর, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাহজিব-উল-আরিফ, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক, কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আক্তারুজ্জামান খান, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. টুম্পা রানী সরকার, অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির, সীড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান ও প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
