এবছরও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে অংশগ্রহণ করছে না রাবিপ্রবি
রাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ১০ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬। নতুন প্রতিষ্ঠিত হওয়া জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করলেও এবারও অংশগ্রহণ করছে না রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এবং এটি টানা তৃতীয়বার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের চরম অবহেলা ও উদাসীনতাকেই এর জন্য সরাসরি দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ খেলোয়াড়রা।
জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে রাবিপ্রবির ফুটবল খেলোয়াড়রা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বারবার শারীরিক শিক্ষা বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে বারবার। কিন্তু প্রতিবারই “বাজেট নেই”। এই একটিমাত্র অজুহাত দিয়ে বিভাগটি দায় এড়িয়ে গেছে বারবার। বিভাগের এই ধারাবাহিক নিষ্ক্রিয়তা ও সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বছরের পর বছর।
রাবিপ্রবি ফুটবল দলের খেলোয়াড় হৃদয় চাকমা বলেন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দল রাবিপ্রবির গর্ব, আবেগ ও পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০২২ সালে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমরা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্টে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। এবছরও বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার প্রবল ইচ্ছা ও সক্ষম দল থাকা সত্ত্বেও অংশগ্রহণ করতে না পারাটা অত্যন্ত কষ্টের। আমাদের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের স্যাররা অতিরিক্ত দায়িত্বের মাঝেও আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে একজন দক্ষ ও স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজন। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, গর্ব ও আবেগের জায়গা।
আরেক খেলোয়াড় দোয়েল ময় ত্রিপুরা বলেন, একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের মতন বড় পর্যায়ে খেলার অধিকার আমাদের আছে। কিন্তু বারবার সেই টুর্নামেন্টে কেন আমরা অংশগ্রহণ করতে পারি না সেটাও একটা বড় প্রশ্ন!
আমি একজন রাবিপ্রবি ফুটবল টিমের খেলোয়াড় হিসেবে মনে করি, এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যর্থতা।
সাবেক অনূর্ধ্ব ১৮ ভলিবল খেলোয়াড় ও বর্তমান বান্দরবান জেলা ভলিবল দলের দলীয় অধিনায়ক জেমি রৌশান বলেন, এটি খুবই হতাশাজনক। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে থাকে পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন কার্যক্রম দেখিনা। প্রথমে বলি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনা করার জায়গা নয়। নিজের মেধার সবকিছু যাচাই করা বা চর্চা করার জায়গা হলো বিশ্ববিদ্যালয়। খেলাধুলা বা মেধাসৃজন চর্চা শুধু বিনোদনই নয় এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের টোটাল ফিটনেস অর্জনের ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও মেধাসৃজন চর্চা অত্যন্ত অপরিহার্য বলে মনে করি। আর আমার জানা মতে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের জন্য একটা নির্দিষ্ট বাজেট থাকে প্রতিটি অর্থবছরে। কিন্তু আমার বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র বার্ষিক ক্রিয়া আয়োজনের সীমাবদ্ধ কেন? প্রশ্ন রেখে গেলাম।
সুজিত চাকমা বলেন, এটা একসাথে হতাশার এবং আপসোসের। গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে অংশগ্রহণ করতে চাইতেছে না। শিক্ষার্থীদের সদিচ্ছা থাকার সত্ত্বেও শারীরিক শিক্ষা বিভাগ কাজে লাগাতে পারতেছেনা এটা আমি মনে করি যে, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যর্থতা। অথচ শিক্ষার্থীদের চাইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারিরীক শিক্ষা বিভাগের ইচ্ছাটা থাকা উচিত ছিল।
ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভার যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা। দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন জাতীয় মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরছে, তখন রাবিপ্রবির অংশগ্রহণ না করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক জি.এম সেলিম আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট অংশগ্রহনের জন্য যে চিঠি আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে সেটি আমাদের দপ্তরে দেরিতে এসে পৌছেসে। এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার জন্য রেজিস্ট্রেশন এর শেষ দিন ছিলো এপ্রিলের ১৬ তারিখ। কিন্ত আমাদের কাছে এ চিঠিটা পৌছেছে ডেট শেষ হওয়ার পরে। এর কারণ আমাদের ক্যাম্পাস ঐ সময় ছুটিতে ছিল যার কারনে আমরা সঠিক সময়ে সম্মতি পত্র পাঠাতে পারিনি। আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি এবং সামনে আমরা আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছি যাতে করে সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করতে পারে।
