জিলা স্কুলকে উড়িয়ে কুষ্টিয়ার নতুন সম্রাট সানআপের জারিফ!
কুষ্টিয়া, ৩০ এপ্রিল ২০২৬: মাঠ যখন যুদ্ধক্ষেত্র আর র্যাকেট যখন তলোয়ার, তখন ইতিহাস কেবল বিজয়ীদেরই মনে রাখে। গতকাল ২৯ এপ্রিল কুষ্টিয়া পৌর জিমনেসিয়াম মাঠে আয়োজিত ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর ব্যাডমিন্টন ফাইনালে তেমনই এক মহাকাব্য রচনা করলো সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির বিস্ময় বালক জারিফ আল মামুন। টানটান উত্তেজনার এক স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া জিলা স্কুলকে সরাসরি সেটে পরাজিত করে পৌর পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে জারিফ। গতির ঝড় আর খুনে স্ম্যাশে কুপোকাত প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে জারিফ এখন জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য কুষ্টিয়ার তুরুপের তাস।
র্যাকেটের জাদুতে ধুলিসাৎ ঐতিহ্য: জারিফ যখন অপ্রতিরোধ্য
মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় যখন সে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখি হয়। কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা ছিল জারিফের জন্য মানসিক শক্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা। কিন্তু জিমনেসিয়ামের কোর্টে জারিফ যেন খেলছিল না, বরং এক অদৃশ্য জ্যামিতিক নকশা বুনছিল। তার প্রতিটি মুভমেন্ট ছিল ডেটা-অ্যানালিটিক্যাল শটের মতো নিখুঁত। দর্শকরা স্তব্ধ হয়ে দেখছিল, কীভাবে একজন কিশোর তার রিফ্লেক্স এবং টেকনিক্যাল বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলছে। দর্শকরা বলছে, এটি কেবল গায়ের জোরের জয় নয়, বরং গাণিতিক বুদ্ধির জয়।
শিক্ষা বনাম খেলাধুলা: দর্শনের নতুন দিগন্ত
আইনগতভাবে শিক্ষার অধিকার যেমন স্বীকৃত, সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার অধিকারও শিশুর বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জারিফ প্রমাণ করেছে যে, বাংলা মাধ্যমের ছাত্র হয়েও আধুনিক বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে মাঠ কাঁপানো সম্ভব। সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় গর্বের সাথে জানান, “জারিফ কেবল ক্লাসরুমের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; সে আমাদের স্কুলের সেই নক্ষত্র যে মাঠকেও আলোকিত করতে জানে। তার এই জয় আমাদের শিক্ষা দর্শনেরই একটি বড় সাফল্য।”
আগামীর লক্ষ্য: জাতীয় পর্যায়ের আকাশ ছোঁয়া
বিজয়োল্লাসে মেতে থাকা জারিফ আল মামুন জানায়, “এটি কেবল শুরু। আমার লক্ষ্য এখন জেলা পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কুষ্টিয়ার পতাকা উড়ানো। আমার শিক্ষক এবং বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা না থাকলে এই ‘শাটল-ডমিনেন্স’ সম্ভব হতো না।” ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, ‘নতুন কুড়ি’র মতো প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে উঠে আসা জারিফের মতো খেলোয়াড়রাই ভবিষ্যতে অলিম্পিকের স্বপ্ন দেখাবে বাংলাদেশকে।
এখন সবার চোখ জেলা পর্যায়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে, যেখানে জারিফের র্যাকেট আবার কথা বলবে আগামীর জয়ের নেশায়।
(সূত্র: ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ)
