হলের নাম বদলালেও লাইব্রেরির ফলকে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’, গেস্ট রুমেও তালা

Spread the love

হলের নাম বদলালেও লাইব্রেরির ফলকে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’, গেস্ট রুমেও তালা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’ রাখা হয়েছে প্রায় এক বছর সাত মাস আগে। তবে এত সময় পেরিয়ে গেলেও হলের লাইব্রেরি কক্ষের নামফলক থেকে সরানো হয়নি পূর্বের নাম। ফলে হলের নাম পরিবর্তন হলেও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নামফলকে রয়ে গেছে পুরোনো পরিচয়।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে হলটির নাম পরিবর্তন করে ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’ রাখা হয়। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হলের লাইব্রেরি কক্ষের নামফলকে এখনো ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’ নামটি দৃশ্যমান রয়েছে বলে দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের নাম পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নামফলকটি পরিবর্তন না করা প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনারই প্রতিফলন। একটি নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও নথিপত্রেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে হলের গেস্ট রুম নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অফিস সময়ের বাইরে গেস্ট রুমে তালা দিয়ে রাখা হয়। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে আসা অভিভাবক, স্বজন কিংবা অতিথিদের নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। জরুরি প্রয়োজনেও গেস্ট রুম ব্যবহার করতে না পারায় ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হলের নাম পরিবর্তনের প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও লাইব্রেরির নামফলকে এখনো আগের নাম থাকা সত্যিই দুঃখজনক। এতে মনে হচ্ছে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। একই সঙ্গে অফিস সময়ের বাইরে গেস্ট রুম তালাবদ্ধ থাকায় আমাদের অতিথি বা অভিভাবকরা এলে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।”

এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট ফাতিমাতুয যোহরার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” আমি নিজেও এটা খেয়াল করিনি। কোন শিক্ষার্থীও এবিষয়টি আমাকে জানায়নি। লাইব্রেরীর নাম ফলকের বিষয়টা আমি অবগত না। গেস্ট রুমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হলে সর্বক্ষণিক একজন আয়া থাকে। তার কাছে চাবি থাকে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী রুম খুলে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবি, হলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লাইব্রেরিসহ হলের সব নামফলক দ্রুত সংশোধন করা এবং গেস্ট রুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে থাকা এসব বিষয় দ্রুত সমাধান না হলে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও হল ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *