দুর্নীতি:রাষ্ট্রযন্ত্র ধ্বংসের প্রধান কারিগর
দুর্নীতি আর বাংলাদেশ যেন সমার্থক শব্দ।পত্রিকা হাতে নিলেই চোখে পড়ে অহড়হ দুর্নীতির খবর। বহির্বিশ্বে যে কটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্নাম রয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম হলো দুর্নীতি। সর্বশেষ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫ অনুযায়ী, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩ তম।এ পরিসংখ্যান থেকেই আঁচ করা যায়,এ দেশের প্রতিটি খাত যে দুর্নীতির ভয়াবহ কশাঘাতে জর্জরিত।ঘুষ আদান-প্রদান,সরকারি অর্থ আত্মসাৎ,টেন্ডারবাজি,জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস,ভর্তি ও নিয়োগে অনিয়ম,অর্থ পাচার প্রভৃতি যেন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।এসবের ফলে দেশের অর্থনীতির চরম ক্ষতি সাধিত হয়,সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, আইনের শাসন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে,দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।সর্বোপরি, দুর্নীতি একটি দেশের মর্মমূলে আঘাত করে। ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে পড়ে। এ ভয়াবহ সমস্যার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকলেও ক্ষমতার অপব্যবহার, ভোগবাদী মানসিকতা আর অভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
দুর্নীতি একটি চলমান সমস্যা।এর থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস। কোনো একক প্রচেষ্টায় দুর্নীতির প্রতিকার করা সম্ভব নয়।তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, জনগণও তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।জনগণকে নৈতিক জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করা জরুরি।এক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।
নাবিলা খানম
ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স
প্রথম বর্ষ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

