নিরাপদ খাদ্য কি আজও স্বপ্ন? উত্তরণের উপায় কী?

Spread the love

নিরাপদ খাদ্য কি আজও স্বপ্ন? উত্তরণের উপায় কী?

বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ অন্যতম একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা, বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে রাসায়নিকের ব্যবহার, অসৎ উপায়ে কৃত্রিম উপাদান মেশানো এবং স্বাস্থসম্মত উপাসে প্রক্রিয়াজাতকরণ না করার ফলে এই সংকট সংকট দিনে দিনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (BFSA) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় প্রায় ৩৩.৩% হতে ৫০% পর্যন্ত খাদ্যের নমুনায় ভেজাল, দূষণ বা পুষ্টিমানের বিচ্যুতি পাওয়া গেছে। প্রতিদিন আমরা যা কিছু আহরণ করি তার প্রত্যেকটি খাবারের মধ্যেই রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভেজাল। মাছ, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল, শাকসবজি এবং মিষ্টিজাতীয় সকল খাবারেই ভেজালের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এসব ভেজালযুক্ত খাবার আহরণের ফলে ফুড পয়েজনিং, ডায়রিয়া, তীব্র এল্যার্জী, লিভার ও কিডনি অকেজো হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সারের ঝুঁকি ইত্যাদি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রবণতা রয়েছে। এই মারাত্মক অপরাধের প্রধান চালিকাশক্তি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের রাতারাতি অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লোভ। কম খরচে খাবারের পচন ঠেকাতে বা স্থায়িত্ব বাড়াতে তারা খাঁটি উপাদানের বদলে সস্তা ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে। এছাড়া অতিরিক্ত জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় পচনশীল খাদ্যে ভেজাল বা কেমিক্যাল মেশানো হয়। অসৎ উপায়ে সময়ের আগেই চড়া দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর প্রবণতাও অত্যন্ত প্রবল। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৫ নং ধারায় সরাসরি ভেজাল খাদ্য বা খাদ্যোপকরণ উৎপাদন, আমদানি ও বিপণন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত মূল বিধানটি স্পষ্ট করা হয়েছে। আইনের ২৫ নং ধারার এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ৫৮ নং ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হয়। এই অপরাধের সাজা নিম্নরূপ: কারাদণ্ড: অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড: অনধিক ৬ (ছয়) লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। অপরাধের পুনরাবৃত্তি: একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি দ্বিতীয়বার এই ধারা লঘ্নন করে, তবে তাঁর সাজা ও জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।
উত্তরণের উপায়: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত বাজার ও উৎপাদন কারখানায় ঝটিকা অভিযান চালাতে হবে। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে সর্বোচ্চ শাস্তি, বড় অংকের জরিমানা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার আইন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে হবে। ফল পাকানো, সংরক্ষণ বা রং করার জন্য কাপড়ের রং বা ফরমালিনের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকের অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধ করা। দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের খাদ্য পরীক্ষাগার (Food Testing Lab) স্থাপন করা, যাতে যেকোনো খাদ্যের ভেজাল দ্রুত সনাক্ত করা যায়।কোনো খাবারে বা রেস্তোরাঁয় ভেজাল বা নোংরা পরিবেশ দেখলে তা মুখ বুজে সহ্য না করে হটলাইন নম্বরে (যেমন: ১৬১২১) বা ভোক্তা-অধিকার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা।

শারমিলা মোস্তফা লাবীবা
প্রথম বর্ষ
ক্রিমিনলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *