
ইবি প্রতিনিধি
সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ অষ্টম বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সত্তরের অধিক শিক্ষার্থী। এতে প্রথমবারেই বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের ৪০ জন, ২০১৮-১৯ বর্ষের ১২ জন ও এর আগের ব্যাচসহ ৭০ এর অধিক শিক্ষার্থী নতুন আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
গত রোববার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার সারা দেশ থেকে মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
জানা যায়, প্রথমবারের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের (আইন-৩০) ৫৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৪০ জন ও ২০১৮-১৯ বর্ষের শতভাগ অংশগ্রহণকারী উত্তীর্ণ হয়। এছাড়া ২০১৬-১৭ বর্ষ ও তার আগের বর্ষ মিলে ৭০ এর অধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের ১৩ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আইন পেশায় অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশায় যুক্ত হতে তাদের ছয় মাসের মধ্যে নির্ধারিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিতে হবে।
বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিউল আলম রাফি বলেন, আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। শুরু থেকেই এই পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
আমাদের সেশন (১৭-১৮) শুধু একটি ব্যাচ ছিল না, এটা ছিল একটি পরিবার—যেখানে আমরা একসাথে স্বপ্ন দেখেছি, সংগ্রাম করেছি, অসংখ্য নির্ঘুম রাত, পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা, একে অপরকে সাহস দেওয়া—এই প্রতিটি মুহূর্ত আজকের এই সাফল্যকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। এটা আমাদের সম্মিলিত পরিশ্রম, ত্যাগ, ধৈর্য আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফসল।
আরেক শিক্ষার্থী সানজিদা পারভীন বলেন,
আমি শুধু উচ্ছ্বসিত নয়, গর্বিতও বটে আমাদের সমাজে এখনও মেয়েদের জন্য “নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা” হিসেবে শিক্ষকতাকে উৎসাহিত করলেও নারী আইনজীবী রোল মডেল হয়ে উঠতে পারিনি।সামাজিক, পারিবারিক, কাঠামোগত ও পেশাগত নানা কারণে এ প্রতিবন্ধকতা কাটানো কঠিন হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, পেশাগত অপ্রতুল অবকাঠামো বা নিরাপত্তা কাটিয়ে উঠতে পারলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে নারীরা অগ্রগামী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবে।
এ অর্জনে গৌরববান্বিত হয়ে আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান তুল্য। তাদের সফলতাই আমাদের সফলতা। তারা নিরলস পরিশ্রম করে এডভোকেট হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারায় আমরা আনন্দিত। আমরা প্রত্যাশা রাখি দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাবে এবং বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিতে তাদের ভূমিকাই প্রমাণ করবে তাদেরকে পাঠদানে আমরা সফল হয়েছি।





