শাবিপ্রবিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

Spread the love
FacebookWhatsAppTelegramThreadsCopy Link

শাবিপ্রবিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন- ১ এর সামনে সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম।

পরবর্তীতে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। এসময় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক সমিতি, হল প্রশাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন, শাবি প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অপণের পর সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মখলিছুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরী, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং প্রধান প্রকৌশলী ও আইইবির সিলেট অঞ্চলের সভাপতি মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এই অঞ্চলের কৃতি সন্তান ও প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ মরহুম সাইফুর রহমানের প্রচেষ্টায় দেশে ভ্যাট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের কেবল পড়াশোনায় মনোযোগী হলেই চলবে না, বরং দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম আঘাত এসেছিল ভাষার ওপর। আমি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীকে স্মরণ করছি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাওলানা ভাসানী একাধিকবার শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। এমনকি ৭ মার্চের ভাষণে দেশবাসীর প্রত্যাশা থাকলেও সেখানে স্বাধীনতার স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

তিনি আরও বলেন, ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানের বর্বর সামরিক জান্তারা যখন দেশজুড়ে নৃশংস আক্রমণ চালায়, তখন জাতি নেতৃত্বশূন্য হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। এমনি এক চরম ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতিতে দেশ ও বহির্বিশ্বের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন তৎকালীন চৌকস সেনা অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান। ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমেই এ দেশের সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিকনির্দেশনা পায়। তিনি কেবল ঘোষণাই দেননি, বরং সম্মুখ সমরে বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এসময় দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, “আমি সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করছি। গত ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁর দূরদর্শী ও শান্তিকামী বক্তব্যের মাধ্যমেই দেশ দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বর্তমানে তাঁর দল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে এবং তাঁর সুযোগ্য সন্তানের হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বিশ্বদরবারে একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষায় সকলকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরী বলেন, জাতীয়তাবাদ শুধু আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ববোধ। একটি আধুনিক ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছর দেশে মাফিয়াতন্ত্র চলেছে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। ইতিহাসের সত্যকে আড়াল করে স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াউর রহমানকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান প্রকৌশলী ও আইইবির সিলেট অঞ্চলের সভাপতি মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের সবার আগে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে হবে। বিভাজন ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন খান।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন লাইফ সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ফারুক মিয়া, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. সালমা আখতার, সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুহঃ মিজানুর রহমান, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক, গণিত বিভাদের অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ফয়ছল আহমদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদনান মোহন, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা প্রমুখ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এছাড়া দোয়ার মাধ্যমে আলোচনা সভা সমাপ্তি হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *