
আফগান ক্রিকেটের উত্থানের নেপথ্যের কারিগর:দেশে অপমানের মুখোমুখি আমিনুল ইসলাম বুলবুল
ক্রিড়া প্রতিনিধি: আফগানিস্তানের ক্রিকেট আজ বিশ্বমঞ্চে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। অথচ এক সময় দেশটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ দল গঠন করাও ছিল কঠিন। এই অবিশ্বাস্য উত্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
লেখক রিয়াজুল বারী প্রভাত লিখেছেন, “এক সময় যে দেশটায় এগারোজন ক্রিকেটার ছিল না; বুলবুলদের ছোঁয়ায়, সংখ্যাটা পৌঁছেছে লাখে।”
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা International Cricket Council (ICC)-এর গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে এশিয়া অঞ্চলে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের ক্রিকেট কাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল আমিনুলের কাঁধে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বুলবুল আফগান ক্রিকেটারদের নিয়ে ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন এবং তাদের জন্য তিনটি হাই-পারফরম্যান্স ইউনিট তৈরি করেন, যা ছিল তারই পরিকল্পনা। এই ইউনিটগুলো থেকেই উঠে এসেছে গুরবাজ, ফারুকি, মুজিব, ওমরজাই, গাজানফার, সাদিকুল্লাহসহ অসংখ্য ক্রিকেটার।
চীনে ক্রিকেটের সূচনায় ভূমিকা
প্রভাত তার লেখায় বলেন, “চীনা ক্রিকেটের জনকও বলা হয় বুলবুলকে।”
Asian Cricket Council (ACC)-এর হয়ে কাজ করার সময় চীনে ক্রিকেটের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। লেখকের ভাষায়, “যে দেশটা ব্যাট-বলই চিনতো না; তাদের ব্যাট ধরতে পর্যন্ত শিখিয়েছিলেন বুলবুল।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুলবুল চীনা ভাষাও শিখেছিলেন, যা তার কাজকে আরও কার্যকর করে তোলে।
দেশে ফিরে কঠিন বাস্তবতা
তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেলেও নিজ দেশে এসে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক।
লেখক বলেন, “তিনি হয়তো ভুলে গেছিলেন, তিনি এমন এক দেশের ক্রিকেটের হাল ধরতে যাচ্ছেন যেখানে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার কোনো মূল্য নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ক্রিকেট কাঠামোর ভেতরে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্লাব সিন্ডিকেট এবং নানা অনিয়ম। তার ভাষায়, “এখানে টিকে থাকতে হলে দরকার শক্তিশালী প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সমর্থন।”
প্রভাত আরও বলেন, বুলবুল যখন রুট লেভেলের সমস্যাগুলো সমাধানে জোর দেন এবং আঞ্চলিক ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে চান, তখনই তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
লেখক শেষাংশে আক্ষেপ করে বলেন, “ICC, ACC-তে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করা একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে নিজ দেশে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে, যা আমাদের জন্য লজ্জার।”
তবে আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। তার ভাষায়, “একদিন আসবে, সেদিন আমিনুল সাহেব সম্মানের সহিত এদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবেন।”





