বেরোবিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে, ব্যবহার জানেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

Spread the love

মুজতাহিদ মিনার, বেরোবি প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন এবং আবাসিক হলগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। তবে এসব যন্ত্রের ব্যবহারবিধি সম্পর্কে অধিকাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরই স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে যন্ত্রগুলো থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে ।

গত ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২-এ বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই সময় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে উপস্থিত ব্যক্তিদের কেউই জানতেন না। পরে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটিতে চার দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবে এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন এবং আবাসিক হল ঘুরে দেখা যায়, করিডোর ও সিঁড়ির পাশে এবিসি ড্রাই পাউডার (ABC Dry Powder) এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব যন্ত্রের ব্যবহারবিধি সম্পর্কে অধিকাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আবাসিক শিক্ষার্থীর স্পষ্ট ধারণা নেই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবহারিক মহড়া বা প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়নি। ফলে আগুনের প্রাথমিক পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনার মতো প্রস্তুতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেই।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান ফারসি বলেন, কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের তেমন ধারণা নেই। শুধু যন্ত্র স্থাপন করলেই হবে না, কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে হয়, সে বিষয়েও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কারণ, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবহারবিধি শেখার সুযোগ থাকে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী লিমন হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ঝুলিয়ে রাখা হলেও সেগুলোর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানেন না। কিছুদিন আগে আমাদের ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। তখন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করতে কেউই জানতেন না। একজন শিক্ষক ব্যবহারবিধি জানতেন, তিনি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন। তাই শুধু যন্ত্র স্থাপন না করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপন করলেই অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে জানতে হবে। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসমাইল হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র যাঁদের ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে, তাঁদের অনেকেই এর ব্যবহারবিধি জানেন না। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে। এ সপ্তাহের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। আশা করি, এটি ফলপ্রসূ হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে অগ্নিনির্বাপণবিষয়ক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও মক ড্রিলের আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ভবন ও আবাসিক হলে স্থাপিত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের পাশে সহজ ভাষায় ব্যবহারবিধি টাঙিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *