আন্তর্জাতিক ফুড ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে বাকৃবির বাজিমাত, শীর্ষ ছয়ে ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’
সুমন গাজী, বাকৃবি প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক ফুড সিস্টেমস ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এ প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয়ে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রতিযোগিতার কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের ওয়াগেনিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওম্নিয়া ভবনে এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০টি দল অংশগ্রহণ করেন। ওয়াগেনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ (ডব্লিউইউআর) ও নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ আয়োজিত ছয় মাসব্যাপী এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই খাদ্যব্যবস্থা, জলবায়ু অভিযোজন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
প্রতিযোগিতায় রানার্স-আপ হয়ে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নেয় ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’। এ অর্জনের মাধ্যমে ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ‘ইয়ুথ ফুড ল্যাব ইনকিউবেশন’ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করেছে দলটি। ডব্লিউইউআর, ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ও আইএএএসের যৌথ উদ্যোগে ‘ইয়ুথ ফুড ল্যাব ইনকিউবেশন’ আয়োজন করা হবে।
আট সদস্যের ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ দলের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বাকৃবির ছয় শিক্ষার্থী মুরশিদা জাহান মিতু, নূর আয়শা চৌধুরী, মো.আরকানুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম বাধন, সাইফা সাবা হোসাইন ও কুর্চি রহমান লুবা। এছাড়া দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লিটন ত্রিপুরা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানী তাকবিম এশা। এছাড়া দলের মেন্টর হিসেবে ছিলেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ।
প্রতিযোগিতায় ‘দ্য গোল্ডেন লুপ’ প্রকল্পটি মূলত পাটের বর্জ্য ব্যবহার করে জলজ পরিবেশের সুরক্ষা ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থার উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরে। এতে বর্জ্য পাটের বস্তা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি ‘জুট জিওটেক্সটাইল’ দিয়ে পুকুরের পাড় ক্ষয় রোধ এবং পাটকাঠি থেকে প্রস্তুতকৃত ‘বায়োচার’ দিয়ে পুকুরের পানির মান উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়।
প্রথম ধাপে নির্বাচিত হয়ে প্রাপ্ত ১ হাজার ইউরোর সিড গ্রান্ট কাজে লাগিয়ে গত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের কাজ, কর্মশালা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় বলে জানান দলের সদস্যরা।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে দলের সদস্য নূর আয়শা চৌধুরী বলেন, শুরু থেকেই ধারণাটি বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষার সঙ্গে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কাজ, নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক সময় মাঠপর্যায়ে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং সেগুলো নিজেদের উদ্যোগেই সমাধান করতে হয়েছে। এ সময়ে শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাদের কাজ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছয় মাসের নিরলস পরিশ্রমের ফল এই অর্জন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।’
টিম মেন্টর অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ বলেন, গতবারের চ্যাম্পিয়ন ও এবারের রানার্স আপ দুই দলকেই মেন্টরিং করার সুযোগ পেয়েছি। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্ত:বিষয়কভাবে কাজ করেছে এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম ও অর্জনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারা একজন শিক্ষক হিসেবে আনন্দ ও গৌরবের বিষয়।

কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে একমাত্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ই গত বছর প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এ বছরও অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দুটি সম্ভাবনাময় দল নির্বাচন করে কো-অর্ডিনেটর ও মেন্টরদের মাধ্যমে তাদের প্রস্তুত করা হয়। দুই বছরেই বাকৃবির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও তারা দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে বলে আশা করি।
